সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সোনারগাঁয়ের ললাটি মধ্যপাড়া গ্রামে গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি জমি দখলে বাধা দেওয়ায় লাল মিয়া নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন আসামী ডিস আলামিনকে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার তালতলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির এসআই মো. আরিফ। ডিস আলামিন জামপুর ইউপির তিলাব গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
এদিকে লাল মিয়া হত্যাকান্ডের মূলহোতা ভূমিদস্যু হাজী আনোয়ার সম্প্রতি জামিনে এসে মামলার বাদিকে আপোষ করার জন্য হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত লাল মিয়ার স্বজনরা জানায়, হাজী আনোয়ার জামিন পাওয়ার পরপরই ললাটি এলাকায় তার স্বশস্ত্র নাতি বাহিনীর মহড়া শুরু হয়ে গেছে। সন্ত্রাসীরা হাজী আনোয়ারের সাথে আপোষ করে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বাদি পক্ষকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আর আপোষ না করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাদির আত্মীয়স্বজনকে জেল খাঁটানোর হুমকি দিচ্ছে। লাল মিয়ার স্বজনরা আরো জানায়, হাজী আনোয়ার বলে বেড়ায় সোনারগাঁয়ের এমপি তার পক্ষে আছে। পুলিশ প্রশাসনও তার পকেটে।
তাই বছরের পর বছর মামলা বেয়েও কোন লাভ হবে না। সময় থাকতে আপোষ না করলে উল্টো মামলা দিয়ে নিহতের স্বজনদেরকেই জেল হাজতে পুড়বে। তাই এ ব্যাপারে তারা জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ললাটি মধ্যপাড়া এলাকায় ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে খোরশেদ মিয়ার সাথে ভূমিদস্যু হাজী আনোয়ারের দ্বন্দ্ব ছিলো। গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে হাজী আনোয়ার একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে ওই জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে তা দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এসময় খোরশেদ মিয়ার ফুপা লাল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি দখলে বাধা দিয়ে ভূমিদস্যু হাজী আনোয়ার, মহিউদ্দিন, সামাদ ভূঁইয়া, হাবুল্লা, গোলজার, আলামিন ও মিঠু সহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা লাল মিয়াকে এলোপাতারি পিটিয়ে আহত করে।
পরে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় লাল মিয়ার স্ত্রী আফিয়া খাতুন বাদি হয়ে হাজী আনোয়ার, মহিউদ্দিন, সামাদ ভূঁইয়া, হাবুল্লা, গোলজার, মিঠু, জসিম ও ইমরান সহ অজ্ঞাত ১৫/২০ জনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলায় ইতিমধ্যে সামাদ ভূঁইয়া, মহিউদ্দিন, হাবুল্লা, গোলজার ও সর্বশেষ আলামিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে